যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৫ আশ্বিন ১৪৩৩

কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, তীব্র হচ্ছে ভাঙন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ PM
কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, তীব্র হচ্ছে ভাঙন

ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামে ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ছে। তিস্তার পানি সামান্য কমলেও তা বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, দুটি বাজার ও কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এ সময়ে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করার পাশাপাশি নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে চিলমারী উপজেলার কাচকোল বাজারের দক্ষিণে কেডি ওয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বাঁধের পিচিং করা ব্লকও দেবে যাচ্ছে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের উত্তর নামাজের চরেও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন তীব্র হয়েছে। স্থানীয়দের হিসাবে, গত ১০ দিনে ওই এলাকায় ১৫টি বসতভিটা ও ১৬ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে উত্তর নামাজের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহেবের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হবিগঞ্জ বাজার ও আনন্দ বাজার।

ভাঙন রোধের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েক দিন আগে মানববন্ধনও করেছেন। একই এলাকায় জাহাজের আলগা চরে গত এক মাসে অর্ধশতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। সেখানে জাহাজের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া দই খাওয়ার চর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও নতুন বাজারসহ আরও কয়েকটি স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

দুধকুমার নদের ভাঙনে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুরের বানিয়াপাড়া ও ভগবতিপুর, নাগেশ্বরী উপজেলার চর নারায়ণপুর এবং ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া এলাকায় ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় ঘরবাড়িও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

ধরলা নদীর ভাঙনে সারডোব ও চর বড়লই এলাকায় আবাদি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাড়িঘর ও স্থাপনা রক্ষার বাইরে জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশনা না থাকায় কিছু এলাকায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে, তিস্তা নদীর ভাঙনে রাজারহাট উপজেলার পলাশপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ করে স্থানীয়রা নিজেরাই গাছের ডাল ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। এ এলাকায় নদীর কিনারায় কয়েকটি বাড়িও ঝুঁকিতে রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, বর্তমানে জেলার ২০টি পয়েন্টে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ৪ থেকে ৫টি পয়েন্টে ভাঙন প্রতিরোধে কাজের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!