যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৫ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশে তেলের দাম বাড়ার দিনেই বিশ্ববাজারে কমল অপরিশোধিত তেলের দর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ PM
দেশে তেলের দাম বাড়ার দিনেই বিশ্ববাজারে কমল অপরিশোধিত তেলের দর

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা; ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দর কার্যকর হয়েছে সোমবার। একই দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সৌদি আরবের তেল সরবরাহ পুনরুদ্ধারের খবরে বিশ্ববাজারে এ পতন দেখা যায়।

সোমবার বাংলাদেশ সময় সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারের কাছাকাছি নেমে যায়। রয়টার্সের হিসাবে, ব্রেন্টের নভেম্বরের চুক্তি ২ দশমিক ১৬ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ক্রুড ২ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছিল। দিনের শুরুর দিকের বাজারদর সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি ছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহের কথাও বাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানিও ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দৈনিক প্রায় ২৪ লাখ ব্যারেলে নেমে গেলেও সেপ্টেম্বরে তা ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশাও বিশ্ববাজারে দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, উচ্চ পরিবহন ব্যয় এবং আঞ্চলিক সংঘাত এখনো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়েছে। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প পথে তেল সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে দেশের বাজারে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন জ্বালানি তেলের দাম কার্যকর হয়েছে। সরকারের পুনর্নির্ধারিত দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা করা হয়েছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি পণ্যের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বেড়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে সরকার একই দাম বহাল রেখেছিল; পরে আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশের জ্বালানি পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যে নতুন করে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশের বাজারে নতুন মূল্য ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সাম্প্রতিক দরপতনের প্রভাব দেশের খুচরা জ্বালানি মূল্যে কবে প্রতিফলিত হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী মূল্য সমন্বয় ও বাজার পরিস্থিতির ওপর।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!