যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকা ২৪ ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ PM ১৮
মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকা ২৪ ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ

দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা ট্রমা সেন্টারগুলোকে জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টারকে আবার চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে সারাদেশে ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কেন্দ্র চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেন। বৈঠকে বিদ্যমান ২৪টি ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন এবং পর্যায়ক্রমে সেখানে চিকিৎসাসেবা চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এজন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

সরকারি পরিকল্পনায় সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে মহাসড়কের পাশে থাকা খালি জায়গাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ স্থাপনের কথা রয়েছে। জরুরি চিকিৎসার জন্য এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ব্যয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে মেটানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে এসব ট্রমা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছিল। বিশেষ করে মাথা, বুক, মেরুদণ্ড ও হাড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাবে অধিকাংশ কেন্দ্রই কার্যকরভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কের পাশে ১০টি এবং ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনতলা ভবনগুলোর প্রতিটিতে ২০ শয্যার আইসিইউ ও ৪০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের কথা ছিল।

প্রতিটি কেন্দ্রে সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেটিস্ট ও দুজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা ছিল। পাশাপাশি ১০ জন নার্স, ফার্মাসিস্ট, রেডিওগ্রাফার ও বিভিন্ন ধরনের টেকনিশিয়ান নিয়োগের পরিকল্পনাও ছিল। বাস্তবে কোনো কেন্দ্রেই নির্ধারিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

দেশের ২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। আরেকটি কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী মহাসড়ককেন্দ্রিক জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু হয়নি।

এর একটি উদাহরণ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টার। ঢাকা-রাজশাহী-রংপুর মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০২০ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। পরে সেটিও আবার বন্ধ হয়ে যায়।

দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা এসব ট্রমা সেন্টারের মধ্যে রয়েছে পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জ সদর ও উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা (মধুখালী), মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী ও রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবল।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, মহাসড়ককে কেন্দ্র করে ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালুর কাজ চলছে। তাঁর ভাষ্য, এগুলোকে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সেন্টার’ হিসেবে রূপান্তরের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে একটি জরুরি সেবানেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, এই উদ্যোগকে শুধু সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে না দেখে ভবিষ্যতে দেশের নিয়মিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি টেকসই অংশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি সময়ে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!