নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ভবন; ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) লক্ষ্য করে ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পদক্ষেপ কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আইসিসির সঙ্গে অধিকাংশ আর্থিক লেনদেন নিষিদ্ধ হতে পারে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে সব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখা হতে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা জারির পর প্রায় ছয় থেকে সাত মাসের একটি ‘উইন্ড-ডাউন’ সময় শেষে আইসিসির সঙ্গে অধিকাংশ লেনদেন বন্ধ করার বিধান কার্যকর হতে পারে। এতে মার্কিন ডলারভিত্তিক লেনদেনসহ আদালটির আন্তর্জাতিক আর্থিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির বিচারক, কৌঁসুলি ও কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে। তবে এবার পুরো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নেওয়া হলে সেটি হবে আগের ব্যবস্থার তুলনায় বিস্তৃত উদ্যোগ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে আইসিসির প্রযুক্তি, বিমা, তদন্ত কার্যক্রম ও কর্মীদের বেতন পরিশোধের মতো নিয়মিত কাজও সমস্যার মুখে পড়তে পারে।
আইসিসির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের ভিত্তি তৈরি হয় ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে আইসিসির বিরুদ্ধে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কাঠামো তৈরি করেন। আদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইসিসির এখতিয়ার নিয়ে ওয়াশিংটনের আপত্তির কথা উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে এই নিষেধাজ্ঞার আওতা আরও বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৮ আগস্ট আইসিসির প্রেসিডেন্ট টোমোকো আকানে এবং আদালটির জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়েকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র।
আইসিসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের বড় একটি কারণ গাজা যুদ্ধসংক্রান্ত আদালতের কার্যক্রম। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর পর থেকেই ওয়াশিংটন আদালটির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে চাপ বাড়িয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইসরায়েলও আইসিসির এখতিয়ার ও ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরোধিতা করে আসছে। অন্যদিকে আইসিসি বলছে, তারা রোম সংবিধির আওতায় স্বাধীনভাবে তাদের বিচারিক দায়িত্ব পালন করছে। আগস্টে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর আদালত এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে তাদের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করে এবং কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানায়।
নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে রয়টার্স ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে অথবা এর পরপরই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!