ছবি : ডিআর কঙ্গোয় ইবোলার ঝুঁকি ‘অত্যন্ত উচ্চ’ ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)-তে ইবোলা পরিস্থিতির ঝুঁকি ‘অত্যন্ত উচ্চ’ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। শুক্রবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এ তথ্য জানান।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বর্তমানে ডিআর কঙ্গোয় জাতীয় পর্যায়ে ইবোলার ঝুঁকি অত্যন্ত উচ্চ, আঞ্চলিক পর্যায়ে উচ্চ এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে নিম্ন হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সংস্থাটি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, “আমরা এখন ঝুঁকি মূল্যায়ন সংশোধন করে জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত উচ্চ, আঞ্চলিক পর্যায়ে উচ্চ এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে নিম্ন হিসেবে নির্ধারণ করছি।”
ডব্লিউএইচও’র তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোয় ইবোলায় আক্রান্ত হওয়ার ৮২টি ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জোরদার করা হচ্ছে।
সংস্থাটির গবেষণা ও উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা ভাসি মূর্তি জানান, বর্তমানে যে নতুন ভ্যাকসিনটি নিয়ে কাজ চলছে সেটিকে ‘সবচেয়ে সম্ভাবনাময়’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বহুল ব্যবহৃত ইবোলা ভ্যাকসিন ‘এরভেবো’র সমমানের কার্যকারিতা দেখাতে পারে, যা জাইর প্রজাতির ইবোলার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়।
এদিকে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডার পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। দেশটিতে বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলায় আক্রান্ত দুজন শনাক্ত হয়েছেন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবাই ডিআর কঙ্গো থেকে ভ্রমণ করে এসেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা তুলনামূলক কম প্রাণঘাতী হলেও এটি বিরল হওয়ায় প্রতিরোধ ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয় উপকরণ সীমিত।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইবোলা ভাইরাস সাধারণত প্রাণীদের মধ্যে সংক্রমিত হয়, বিশেষ করে ফলখেকো বাদুড়ের মাধ্যমে। আক্রান্ত প্রাণী ধরার বা খাওয়ার মাধ্যমে কখনো কখনো মানুষের মধ্যেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!