ছবি : আফগানিস্তানে নতুন আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নারী অধিকারকর্মীরা।
তালেবান সরকারের নতুন আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের আশঙ্কা, আফগানিস্তানে বাল্যবিয়ে ও জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের নতুন আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের আশঙ্কা, নতুন এই আইন দেশটিতে বাল্যবিয়ে ও জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো নারী যদি দাবি করেন যে তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবুও স্বামীর সম্মতি ছাড়া তিনি সহজে তালাক নিতে পারবেন না। অধিকারকর্মীদের মতে, এই বিধান নারীদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন করে তুলবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ার পর থেকেই অল্প বয়সে বিয়ের হার বাড়ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক চাপে অনেক পরিবার মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, নতুন আইন কার্যকর হলে জোরপূর্বক বিয়ে ও পারিবারিক নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য আইনি সুরক্ষা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। এর প্রতিবাদে রাজধানী কাবুলে বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নারী অধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেন, তালেবান সরকার ধারাবাহিকভাবে নারীদের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার সীমিত করছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অংশগ্রহণের পর এবার পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রেও নারীদের অধিকার সংকুচিত করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
জাতিসংঘও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, নতুন এই আইন নারী ও কিশোরীদের অধিকার আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
তবে তালেবান সরকার এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, নতুন আইন দেশটির সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে প্রণয়ন করা হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!