বেসিসের প্রতিকী ছবি
ভোটার তালিকা থেকে বাদ বেসিসের অর্ধেকের বেশি সদস্য, বাড়ছে ক্ষোভ
ঢাকা: আসন্ন ২০২৬ সালের Bangladesh Association of Software and Information Services (বেসিস) নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যাপক বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংগঠনটির মোট সদস্যের অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বেসিস সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনটির মোট ২,৮৮২ সদস্যের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় জায়গা পেয়েছেন মাত্র ৯৩৫ জন। অর্থাৎ প্রায় ১,৯৪৭ সদস্য প্রতিষ্ঠান ভোটাধিকার হারিয়েছে। এর মধ্যে ৫৮০ জন সদস্যকে “ইনভ্যালিড” তালিকায় রাখা হয়েছে এবং আরও ১,৩৬৭ জনকে “কোয়ারেন্টাইন” তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সহযোগী সদস্যদের প্রায় ৭১ শতাংশ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এছাড়া অ্যাফিলিয়েট সদস্যদের প্রায় ৬৭.৫ শতাংশ এবং সাধারণ ও ইন্টারন্যাশনাল ক্যাটাগরির প্রায় ৬৬ শতাংশ সদস্য ভোটাধিকার হারিয়েছেন।
চূড়ান্ত তালিকায় সাধারণ সদস্যদের মধ্যে ভোটার হয়েছেন মাত্র ৬২৬ জন, সহযোগী সদস্যদের মধ্যে ১৯২ জন, অ্যাফিলিয়েটে ১১২ জন এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্যাটাগরিতে মাত্র ৫ জন। ফলে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে ১,২৩১ জন, সহযোগী সদস্যদের ৪৭৩ জন, অ্যাফিলিয়েটের ২৩৩ জন এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্যাটাগরির ১০ জন সদস্য বাদ পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, যথাযথ কারণ ব্যাখ্যা ছাড়াই অস্পষ্ট ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক কোম্পানিকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অনেক সদস্য দাবি করেছেন, আপিল শুনানিতে ডাকা হলেও পরে মন্তব্যে “আপিল নট সাবমিটেড” উল্লেখ করে আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সদস্যপদ নবায়ন, নিয়মিত চাঁদা প্রদান এবং সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার পরও ভোটাধিকার হারানো অত্যন্ত হতাশাজনক। অনেকেই এ সিদ্ধান্তকে “অগণতান্ত্রিক” ও “বৈষম্যমূলক” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকায় হস্তক্ষেপ করা হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতেই এই প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংখ্যক সদস্যকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নির্বাচন বোর্ডের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বেসিস নির্বাচন বোর্ডের আপিল বিভাগের চেয়ারম্যান তানিয়া ইসলাম-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইসিটি খাতের উদ্যোক্তা ও স্টেকহোল্ডাররা দ্রুত একটি স্বচ্ছ তদন্ত, ভোটার তালিকা পুনর্মূল্যায়ন এবং বৈধ সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ভোটাধিকার পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, চলমান এই বিতর্ক বেসিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি পুরো প্রযুক্তি খাতে অনাস্থা ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!