ছবিঃ সংগৃহীত
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন Bangladesh Association of Software and Information Services (বেসিস)-এর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ভোটার তালিকায় অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগে বৃহস্পতিবার বেসিস কার্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করতে হয় এবং একপর্যায়ে সংস্কারপন্থীরা অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি উস্কানিমূলক পোস্টকে কেন্দ্র করে। “বেসিস দখল করার টোকাইরা কৈ!”— এমন মন্তব্য ঘিরে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সরেজমিনে দেখা যায়, জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ জুয়েলসহ বিলুপ্ত সহায়ক কমিটির কয়েকজন সদস্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে অংশ নেন।
সংস্কারপন্থীদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে “ফ্যাসিস্ট দোসরদের” ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তারা প্রশ্ন তোলেন— কীভাবে এক রাতের মধ্যে বিপুলসংখ্যক নতুন ভোটার যুক্ত হলো, কেন ভিন্নমতাবলম্বীদের ‘টোকাই’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে এবং আবেদনপত্র গ্রহণের সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা অনুপস্থিত ছিলেন কেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, বিকেল ৪টার পর বর্ধিত সময়ের মধ্যে এক বিতর্কিত ব্যক্তি প্রার্থিতা ফরম জমা দিতে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে কাওরানবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিরন মোল্যার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছিল প্রার্থীদের আবেদনপত্র বিক্রি ও জমা দেওয়ার শেষ সময়। তবে অভিযোগ উঠেছে, পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো সদস্য বেসিস সচিবালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান তানিয়া ইসলাম-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগেও বেসিসের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাধারণ সদস্য ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ৭২৫ জন আবেদন করলেও চূড়ান্ত তালিকায় ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩৫ জনে। অতিরিক্ত ভোটার অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন বোর্ড এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিক্ষুব্ধ সদস্যদের দাবি, একই মালিকানাধীন একাধিক প্রতিষ্ঠানের নামে আলাদা ভোট নিশ্চিত করে একটি বিশেষ গোষ্ঠী নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এতে সংগঠনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বচ্ছতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা।
সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক অডিট, সদস্যপদ যাচাই এবং ভোটার তালিকা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে এলেও সেসব উপেক্ষা করে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলন এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ সদস্যরা।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!