যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬,১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

দুর্নীতি তদন্ত ঘিরে উত্তপ্ত ইন্দোনেশিয়া, পুলিশ সদর দপ্তরে সেনাসদস্যদের অবস্থানে বাড়ছে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৯ PM

১৫
দুর্নীতি তদন্ত ঘিরে উত্তপ্ত ইন্দোনেশিয়া, পুলিশ সদর দপ্তরে সেনাসদস্যদের অবস্থানে বাড়ছে উদ্বেগ

ছবি : সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ায় একটি উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি তদন্তকে কেন্দ্র করে দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে বিরল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী জাকার্তায় এক শীর্ষ প্রসিকিউটর কর্মকর্তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা ও নগদ অর্থ উদ্ধারের পর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, গভীর রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের বাইরে সেনাসদস্যদের উপস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দেয়।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই পরিচালিত এক অভিযানে বিশেষ অপরাধ সংক্রান্ত সাবেক উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল ফেব্রি আদ্রিয়ানশাহর বাসভবন থেকে ৭৪ কেজি সোনার বার এবং প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলার নগদ অর্থ জব্দ করা হয়। বিপুল এই সম্পদ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত ফেব্রি আদ্রিয়ানশাহ বাসভবনটি নিজের বলে স্বীকার করলেও উদ্ধার হওয়া সোনা ও নগদ অর্থের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, জব্দ করা সম্পদের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

ঘটনার পরদিন রাত প্রায় ৩টার দিকে ফেব্রি আদ্রিয়ানশাহর প্রতি সমর্থন জানিয়ে একদল সশস্ত্র সেনাসদস্য জাকার্তার পুলিশ সদর দপ্তরের বাইরে অবস্থান নেয়। যদিও কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি এবং পরে তারা সরে যায়, তবুও ঘটনাটি প্রশাসনের মধ্যে অস্বস্তি ও উদ্বেগ তৈরি করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ানতো দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। আলোচনার মাধ্যমে সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়।

সমঝোতার অংশ হিসেবে ফেব্রি আদ্রিয়ানশাহকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাধারণ পুলিশের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাই পরিচালনা করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কেবল একটি দুর্নীতি তদন্ত নয়; বরং ইন্দোনেশিয়ায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের দীর্ঘদিনের ক্ষমতার প্রতিযোগিতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

১৯৬৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর শাসনামলে পুলিশ বাহিনী সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। গণতান্ত্রিক সংস্কারের পর পুলিশ স্বাধীন বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রভাব বিস্তার ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান প্রশাসনের প্রভাবশালী ক্ষমতাকেন্দ্রগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ানতো যদি দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হন, তাহলে ভবিষ্যতে একই ধরনের উত্তেজনা বা প্রাতিষ্ঠানিক সংঘাত আবারও দেখা দিতে পারে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!