ছবি: সংগৃহীত
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথার আকৃতির কিছু এক্সট্যাসি ট্যাবলেটে উচ্চমাত্রার PMMA শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতা জারি করেছে নেদারল্যান্ডসের ট্রিমবোস ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটি এসব ট্যাবলেটকে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী উল্লেখ করে ব্যবহারকারীদের জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ দিয়েছে।
উটরেখটভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে পরীক্ষার জন্য কয়েকটি ট্যাবলেট জমা দেওয়া হয়। সেগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষায় PMMA-এর অত্যন্ত বেশি উপস্থিতি পাওয়া যায়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি ট্যাবলেটগুলো কোনো অবস্থাতেই ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে।
ট্যাবলেটগুলোর বিশেষ আকৃতির কারণে এগুলো সহজেই শনাক্ত করা যায়। এক পাশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথার ছবি রয়েছে। অপর পাশে লেখা রয়েছে ‘Trump’ ও ‘NL’।
PMMA একটি উত্তেজক রাসায়নিক, যার প্রভাব MDMA-এর সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে। এক্সট্যাসি ট্যাবলেটে সাধারণত MDMA সক্রিয় উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হলেও PMMA বেশি মাত্রায় থাকলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ট্রিমবোস ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, এসব ট্যাবলেট গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পরও শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে বমি বমি ভাব, দ্রুত হৃদস্পন্দন এবং খিঁচুনির মতো গুরুতর উপসর্গ থাকতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়াও প্রাণঘাতী পরিস্থিতির কারণ হতে পারে।
তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রিমবোস ইনস্টিটিউটের মুখপাত্র অ্যানিক গ্রুথুইস জানিয়েছেন, এই ট্যাবলেট ব্যবহারের কারণে কেউ মারা গেছে বা গুরুতর অসুস্থ হয়েছে—এমন কোনো ঘটনা এখন পর্যন্ত তাদের কাছে রিপোর্ট হয়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেহারা ব্যবহার করে তৈরি ট্যাবলেটের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। ২০১৭ সালে জার্মান পুলিশ ট্রাম্পের মাথার আকৃতির প্রায় ৫ হাজার কমলা রঙের এক্সট্যাসি ট্যাবলেট জব্দ করেছিল।
নেদারল্যান্ডসে এক্সট্যাসি তৈরি, বিক্রি ও ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ। তবে ২০২৪ সালের একটি ডাচ সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশটির পার্টি সংস্কৃতিতে এই মাদক এখনও জনপ্রিয়। ওই প্রতিবেদনে ২০২২ সালে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অন্তত একবার এক্সট্যাসি গ্রহণ করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
বর্তমানে আলোচনায় থাকা ট্যাবলেটগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্বেগের কারণ হলো পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া PMMA-এর উচ্চমাত্রা। এ কারণেই ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে ট্রিমবোস ইনস্টিটিউট।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!