যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

নির্বাচন কমিশনে বিএনপির সাবেক ক্যাডার নিয়োগের অভিযোগ জামায়াত আমিরের

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৯ PM ৪
নির্বাচন কমিশনে বিএনপির সাবেক ক্যাডার নিয়োগের অভিযোগ জামায়াত আমিরের

ছবি:সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি দেখছেন না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পদে বিএনপির একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, নির্বাচন কমিশনে একজন দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জনগণের প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ তাঁর নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির প্রার্থী জয়ী না হলে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হবে না বলে বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শফিকুর রহমানের ভাষ্য, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে আগেই জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। ভয়ভীতি ও দলীয় প্রভাবের পরিবেশে নির্বাচন হলে তা সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানাবে জামায়াত। এ নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, তাঁরা কারও রাজনৈতিক স্বার্থের বলি হতে চান না। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ভোটারদের পছন্দের প্রার্থীকে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, মাদক ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কথা বলা হলেও সেই উন্নতি পরিমাপের ভিত্তি কী, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, সংবাদপত্র সমাজের আয়না। এর মাধ্যমে সমাজের নানা সমস্যা ও অসংগতি সামনে আসে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর আঘাত এসেছিল। সে সময় বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া অন্যগুলোর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদসহ অন্য নেতারা।

এর আগে শনিবার সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে শফিকুর রহমানকে জামায়াতের জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা অভ্যর্থনা জানান। পরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে পৌঁছালে তাঁকে অভ্যর্থনা দেওয়া হয় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!