যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

নেপালে বন্যায় মৃত ১ হাজার ২৫২, নিখোঁজ ৪ হাজার ২১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৯ PM ৭৮
নেপালে বন্যায় মৃত ১ হাজার ২৫২, নিখোঁজ ৪ হাজার ২১৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৫২ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে ৪ হাজার ২১৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর পর্যন্ত নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিআরআরএমএ) এই তথ্য জানিয়েছে।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে এনডিআরআরএমএর তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে চিতওয়ান জেলায়। সেখানে ৩৫৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া নওয়ালপারাসি ইস্টে ২১৮, নওয়ালপারাসি ওয়েস্টে ২০৮ এবং নুওয়াকোটে ১৭৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্যোগের সূত্রপাত হওয়া রাসুয়া জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১২৭ জন।

গোরখা, ধাদিং ও তানাহুন থেকেও মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। তবে উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ২৫২টি মরদেহের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৯৫ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। শনাক্তদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৯০০ কর্মীর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই এবং মাঠপর্যায়ে নতুন তথ্য যুক্ত হওয়ার সঙ্গে নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার, অনুসন্ধান ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় ২১ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৯১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নেপালি সেনাবাহিনী ৭১৫টি হেলিকপ্টার ফ্লাইট পরিচালনা করে ৪ হাজার ৩৬৪ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭৩ জন বিদেশি নাগরিক।

এ ছাড়া বেসরকারি হেলিকপ্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১২৯টি জরুরি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

বন্যায় আহত ৫ হাজারের বেশি মানুষ নেপালি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পরিচালিত হাসপাতাল এবং চিকিৎসা দলের মাধ্যমে চিকিৎসা পেয়েছেন।

নুওয়াকোট, ধাদিং, রাসুয়া ও কাঠমান্ডুর অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৩ হাজার ৯৫০ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছেন।

বন্যায় সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে সড়কপথের পাশাপাশি হেলিকপ্টারে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার কাজ চলছে।

নেপাল টেলিকম জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ১১০টি টাওয়ারের সবগুলোই পুনরায় চালু হয়েছে। বেসরকারি অপারেটর এনসেল জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ৭৮টি সাইটের মধ্যে ৭৫টি আবার সচল করা হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!