যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারে ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৭ PM ৪৯
যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারে ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণ

ভেনেজুয়েলার স্বর্ণের মজুত; ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সংরক্ষিত ভেনেজুয়েলার প্রায় ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে স্থানান্তরের বিষয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতা এগিয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজনের বরাতে বলা হয়েছে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত না হলেও দুই পক্ষ সমঝোতার কাছাকাছি রয়েছে।

আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, স্বর্ণের ওপর আইনগত নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে মজুত সরাসরি বিক্রি করার সুযোগ তাৎক্ষণিকভাবে থাকবে না। বরং প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে স্বর্ণকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে। বিশেষ করে জুনে ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠন কার্যক্রমে অর্থ জোগাতে এই সম্পদ ব্যবহারের কথা আলোচনায় রয়েছে।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ভেনেজুয়েলার স্বর্ণ নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি ও রাজনৈতিক বিরোধের অবসানের পথ তৈরি হতে পারে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ তৎকালীন বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে থাকা দেশটির স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। বিষয়টি পরে যুক্তরাজ্যের আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে থাকা স্বর্ণের পরিমাণ প্রায় ৩১ টন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিরোধী পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পদের ব্যবহারে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছে। আলোচনায় যুক্ত এক বিরোধী নেতার ভাষ্য, স্বর্ণ যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও দেলসি রদ্রিগেজ সরাসরি এর নিয়ন্ত্রণ পাবেন না; এটি তদারকি ও বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে।

গত মাসে ভেনেজুয়েলা সরকার ও বিরোধী পক্ষ জানিয়েছিল, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে আটকে থাকা স্বর্ণের মজুত ব্যবহারের পথ খোলার বিষয়ে তারা একসঙ্গে কাজ করছে। এই সম্পদকে দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে তখন থেকেই আলোচনা চলছে।

এদিকে স্বর্ণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগও সামনে এসেছে। দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে সম্মত হয়েছে এবং কারাকাসে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পুনর্নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে ভেনেজুয়েলায় নতুন নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ তৈরিতে সরকার ও বিরোধীদের আলোচনাও চলছে।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের আদালতের নতুন নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তারা স্বর্ণের হিসাব নিয়ে কোনো পক্ষের নির্দেশ কার্যকর করতে পারবে না। ব্যাংকটির বক্তব্য অনুযায়ী, স্বর্ণের ওপর আইনগত কর্তৃত্ব কার রয়েছে, সেটি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ব্রিটিশ আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বর্ণ নিয়ে সম্ভাব্য সমঝোতাটি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চলমান সরকার ও বিরোধী পক্ষের আলোচনার অন্যতম প্রথম বাস্তব ফল হতে পারে। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে সাত বছর ধরে চলা বিরোধের একটি সমাধান তৈরি হতে পারে। তবে কারিগরি ও আইনি বিষয়গুলো নিষ্পত্তিতে আরও সময় লাগতে পারে।

ভেনেজুয়েলার স্বর্ণ যুক্তরাষ্ট্র

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!