যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

এফ-৩৫-এর সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ হংকংয়ে, চীনের হাতে যাওয়ার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৩ PM | সর্বশেষ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৪ PM ৪৫
এফ-৩৫-এর সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ হংকংয়ে, চীনের হাতে যাওয়ার শঙ্কা

পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি যন্ত্রাংশের চালান নিয়ে তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা উদ্বেগ। অস্ট্রেলিয়া থেকে মেরামতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সময় চালানটির একটি অংশ হংকংয়ে পৌঁছায়। এ ঘটনায় যন্ত্রাংশগুলোর বর্তমান অবস্থান এবং কীভাবে চালানের গতিপথ বদলেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখোঁজ হওয়া যন্ত্রাংশের মধ্যে এফ-৩৫-এর ককপিটে ব্যবহৃত সংবেদনশীল স্টিলথ ক্যানোপিও রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এসব উপাদান কোনোভাবে বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সময় পরিবহনপথে চালানটির গতিপথ পরিবর্তিত হয়। পরে এর একটি অংশ হংকংয়ে পৌঁছায়। তবে কেন এই পরিবর্তন ঘটল, কার সিদ্ধান্তে তা করা হয়েছিল এবং বর্তমানে যন্ত্রাংশগুলো কোথায় রয়েছে—এসব প্রশ্নের এখনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।

এফ-৩৫-এর স্টিলথ সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে বিমানের ক্যানোপিতে ব্যবহৃত বিশেষ প্রলেপ ও রাডার-এড়ানোর প্রযুক্তি সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রযুক্তির তথ্য হংকং বা চীনের হাতে গেলে তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের মত।

এফ-৩৫ কর্মসূচির বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন। নির্দিষ্ট চালান নিয়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

তবে এক বিবৃতিতে লকহিড মার্টিনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সব নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মেনে কাজ করে। এফ-৩৫ কর্মসূচির নিরাপত্তা এবং মিত্র দেশগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিটি চালান সতর্কতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে পরিচালনা করা হয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কিংবা চীনের সামরিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

যুদ্ধবিমান

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!