যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

চুক্তি না হলে ইরানকে ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের, চলছে কূটনৈতিক আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১০ PM ৪৯
চুক্তি না হলে ইরানকে ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের, চলছে কূটনৈতিক আলোচনা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানে সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, তাঁর সামনে এখন একটি বড় সিদ্ধান্ত—ইরানের সঙ্গে চুক্তির পথে যাওয়া, নাকি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করার পথে এগোনো।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তাঁর মন্তব্যকে ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির ওপর কোনো আগ্রাসন হলে তার জবাব আরও কঠোর ও অপ্রত্যাশিত হতে পারে।

তবে প্রকাশ্য বক্তব্যে উত্তেজনা থাকলেও একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, জাতিসংঘে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিনভর যোগাযোগ অব্যাহত ছিল এবং আলোচনার ফল নিয়ে তিনি আশাবাদী।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিউইয়র্কে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্পও। বৈঠকটিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করলেও আলোচনায় কী কী বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকেও শর্তসাপেক্ষে প্রণালীটি খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত এসেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ তুলে নিলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান প্রস্তুত থাকতে পারে।

কাতারের মধ্যস্থতাও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তেহরান কাতারের মাধ্যমে প্রস্তাবিত একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েও আলোচনা করছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এদিকে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরেও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সৌদি আরবকে সমর্থনের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের একটি অংশে পুনরায় তেল সরবরাহ শুরু হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। তবে হরমুজ প্রণালী ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ওপর এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

সব মিলিয়ে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রকাশ্য হুমকি-পাল্টা হুমকির পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও সক্রিয় রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে চলমান এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত সংঘাত নিরসনের কোনো সমঝোতায় পৌঁছায় কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের অন্যতম প্রধান আগ্রহের বিষয়।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!