যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল আইআরজিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ PM ৪৬
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল আইআরজিসি

ছবি: সংগৃহীত

ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক মিশন শেষ হওয়ার ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলে অভিহিত করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিরও সমালোচনা করেছে।

আইআরজিসির দাবি, ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনীর বিদায় দেশটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। অঞ্চলটির নিরাপত্তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজেদের হাতে থাকা উচিত বলেও বিবৃতিতে মত দেওয়া হয়।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক সম্পৃক্ততাকে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত করেছে আইআরজিসি। মার্কিন সামরিক অভিযানে বিপুল অর্থ ব্যয় ও প্রাণহানির কথাও তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সংখ্যা আইআরজিসির নিজস্ব দাবি হওয়ায় সেগুলোকে স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

এর এক দিন আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, ইরাকে Operation Inherent Resolve আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে জোটের সেনা ও সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে সামরিক মিশনটি শেষ হয়।

পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধকালীন জোটভিত্তিক অভিযান থেকে ইরাকের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর নেতৃত্বে নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য ইরাকের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা পুরোপুরি বন্ধ করছে না; প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তার মতো সীমিত সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ করে। ২০১১ সালে অধিকাংশ মার্কিন সেনা দেশটি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে ইসলামিক স্টেট (আইএস) ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করলে ২০১৪ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী আবার ইরাকে অভিযান শুরু করে। সেই অভিযানেরই নাম ছিল Operation Inherent Resolve।

ওয়াশিংটন ও বাগদাদ ২০২৪ সালে ধাপে ধাপে ওই সামরিক মিশন শেষ করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছিল। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইরাকে অভিযানটির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ইরানের পাশাপাশি ইরাকের কয়েকটি ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীও মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের কিছু কর্মকর্তা মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চলে যাওয়ার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!