যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর ২০২৬,২০ আশ্বিন ১৪৩৩

সিইসির পদত্যাগ চেয়ে দিল্লিতে বিক্ষোভ, ৭ শতাধিক আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৮ PM ৩৮
সিইসির পদত্যাগ চেয়ে দিল্লিতে বিক্ষোভ, ৭ শতাধিক আটক

দিল্লির যন্তর মন্তরে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভের একপর্যায়ের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুক্রবার বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ৭ শতাধিক মানুষকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা ও অতিশী মারলেনাও রয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁরা সিইসির পদত্যাগ দাবি করছেন। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠনের আপত্তি সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে।

আন্দোলনে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই), ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন। পুলিশ জানিয়েছে, এসএফআইয়ের প্রায় ৭০০ কর্মী যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে অশোকা রোডের গোলচত্বরে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। তাঁদের অনেককে পরে আটক করা হয়।

এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পরও তাঁকে ও সঞ্জীব ঝাকে আটক করা হয়েছে। তিনি দলের কর্মী-সমর্থকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যন্তর মন্তর নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কর্মসূচির জন্য অনুমতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আরও জানান, তাঁদের দল প্রায় এক সপ্তাহ আগে বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল।

অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ওই কর্মসূচির জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিক্ষোভ ঘিরে নিউ দিল্লি এলাকায় বিধিনিষেধ জারি করা হয় এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক আইশে ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁদের সংগঠন ও ডিওয়াইএফআইয়ের কয়েকজন কর্মীকেও আটক করা হয়েছে। তিনি পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন। এআইএসএ ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনও অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভকারীদের আটকের সময় পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে।

এদিকে ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) কর্মীরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। সংগঠনটির জাতীয় সভাপতি বিনোদ জাখড়সহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশকে ফিরোজ শাহ রোডে পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করতেও দেখা যায়।

বিক্ষোভের কারণে দিল্লির গণপরিবহন ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়ে। দিল্লি মেট্রোর একাধিক স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটসহ কয়েকটি স্টেশনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; সর্বশেষ প্রতিবেদনে ১১টি স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়েছে।

সিইসির পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে এর আগেও দিল্লিতে বিক্ষোভ হয়েছে। এবারও এসআইআর প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্দোলনে নেমেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, ছাত্র ও নাগরিক সংগঠন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!