যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই ও আলোচনার জন্যই প্রস্তুত ইরান: গালিবাফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৩ PM | সর্বশেষ আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৪ PM ৫১
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই ও আলোচনার জন্যই প্রস্তুত ইরান: গালিবাফ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামরিক মোকাবিলা এবং কূটনৈতিক আলোচনা—দুই ক্ষেত্রেই ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

রোববার (৪ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে তেহরান ‘উচ্ছ্বসিতও নয়, ভীতও নয়’। একই সঙ্গে সামরিক শক্তির পাশাপাশি কূটনৈতিক পথ ব্যবহার করে ইরানের স্বার্থ রক্ষার কথা জানান তিনি।

গালিবাফ জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ইরান সাত দিনের একটি পরিকল্পনা দেওয়ার পর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাব এসেছে।

তবে ইরানের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি বলে জানান তিনি। গালিবাফের ভাষ্য অনুযায়ী, জুনে হওয়া ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা হবে না।

ইরান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে এমন একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল ফিরিয়ে আনার কথা বলা হয়। পরে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ওই প্রস্তাবের জবাব দেয়।

তেহরানের শর্তগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর থাকা নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয় রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও ইরান আপাতত পারমাণবিক ইস্যুকে বর্তমান আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে দেখছে না বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তেহরানের দাবি, বর্তমান অগ্রাধিকার হচ্ছে প্রণালির নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট শর্ত বাস্তবায়ন।

একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে তিনি জানান, কূটনীতির পাশাপাশি দেশ রক্ষার প্রস্তুতিও ধরে রাখবে তেহরান।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। শান্তিকালীন সময়ে বৈশ্বিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও চলাচল নিয়ে যেকোনো পরিবর্তন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!