যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

লুট ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্য দিলে মিলবে পুরস্কার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৪ PM ৬০
লুট ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্য দিলে মিলবে পুরস্কার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে অপরাধ পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষায়িত একটি ইউনিট মাঠে নামিয়েছে সরকার। গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম শুরু করেছে ইউনিটটি। একই সঙ্গে অস্ত্র উদ্ধারে সহায়তা করতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী জানান, অস্ত্রের ধরন অনুযায়ী তথ্যদাতাদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। ভারী অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পুরস্কার পাওয়া যাবে। পিস্তল, রিভলভার ও শটগানের মতো অস্ত্রের তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া লুট হওয়া সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারগ্যাস সেলসহ অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধারে সহায়তার জন্য পরিস্থিতি ও অস্ত্রের ধরন বিবেচনায় ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।

তথ্যদাতাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখা হবে। সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের ঝুঁকি ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।

সভায় দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পুলিশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সারাদেশে অভিযান চলছে। এর পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ অভিযান চালানো হবে। এসব অভিযানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য কাজে লাগানো হচ্ছে।

চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিষয়েও সতর্ক করেছেন মন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল না এলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।

এদিকে বাতিল হওয়া অস্ত্রের লাইসেন্সের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে যেসব অস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলোকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এসব অস্ত্রের মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র অন্য দেশে চলে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্য দেশের ভূখণ্ডে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে পারে না। তবে দেশের ভেতরে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে নতুন কিছু কৌশল নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নিরাপত্তার কারণে সেসব কৌশল এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না; শিগগিরই তা মাঠপর্যায়ে কার্যকর করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!