যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

জ্বালানি সংকট কাটাতে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ ক্যাবের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ PM ৭৮
জ্বালানি সংকট কাটাতে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ ক্যাবের

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি খাতের দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশে গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধান-উত্তোলনে সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্যাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সংগঠনটির নেতারা এসব কথা বলেন। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা থেকে বিভিন্ন ওষুধ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সভাটির আয়োজন করা হয়।

সভায় ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সময় লাগতে পারে। তবে তার আগে খাতটিতে যে অনিয়ম ও লুণ্ঠনের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো বন্ধ করা সম্ভব।

তিনি বিদ্যুতের বিল নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে সরবরাহ কমলেও অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার দাবি, বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের বিল ১০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সফিকুজ্জামান আমদানিনির্ভরতা বাড়ানোর নীতিরও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে সরাসরি ক্রয়ের সুযোগ তৈরি করা হলে সেখানে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তার মতে, সংকট তৈরি হওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি পণ্য কেনার পরিবর্তে সময় থাকতেই উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

ক্যাব সভাপতির দাবি, সরকারকে জ্বালানি সংকটের প্রকৃত পরিস্থিতি জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে—এ বিষয়ে বারবার সময়সীমা পরিবর্তন না করে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের ৪০০টির বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে জ্বালানি সংকটে রয়েছে। এর ফলে কিছু রপ্তানি আদেশ অন্য দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং এতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন খাতেও পড়েছে বলে মন্তব্য করেন সফিকুজ্জামান। তার ভাষ্য, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়েছে।

তিনি গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে সিস্টেম লস কমানোর পাশাপাশি চুরি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

সভায় বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স গ্যাস সরবরাহ না থাকা এলাকায় বিল আদায় বন্ধ রাখার দাবি জানান।

তিনি বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া বিলের একটি অংশ গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তার দাবি, কয়েক বছর আগে ওই তহবিলে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা জমা হয়েছিল এবং বর্তমানে তা ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

প্রিন্সের অভিযোগ, গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থ দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের পরিবর্তে এলএনজি আমদানি ও পাইপলাইন নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে। তার দাবি, এলএনজি আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে পর্যাপ্ত অর্থ দেওয়া হয়নি।

জ্বালানি সংকটের জন্য অতীতের ভুল নীতি ও দুর্নীতিকে দায়ী করে তিনি সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারকে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনায় ক্যাব সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ শওকত আলী খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ এবং ক্যাবের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!