যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কাগজের নথি কমাতে ই-পার্লামেন্ট চালুর প্রস্তুতি সংসদে

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১১ PM ১১৬
কাগজের নথি কমাতে ই-পার্লামেন্ট চালুর প্রস্তুতি সংসদে

ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থা বাস্তবায়ন নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনার সংগৃহীত ছবি।

জাতীয় সংসদের কার্যক্রমকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও কাগজসাশ্রয়ী করতে ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটির প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় সংসদীয় নথি ব্যবস্থাপনা ও তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ থাকবে।

পেপারবিহীন সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সামনে রেখে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি এবং কমিটির সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ ও এ বি এম মোশাররফ হোসেন।

বৈঠকে সংসদের দৈনন্দিন কার্যক্রমকে দ্রুত ও আধুনিক করার পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবেই ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থার কাঠামো ও বাস্তবায়ন নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় বাংলা ও ইংরেজি ভাষার সংস্করণ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সংসদীয় বিভিন্ন নথি সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা সম্ভব হবে। এতে প্রচলিত কাগজভিত্তিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

ই-পার্লামেন্ট বাস্তবায়নের জন্য ডেপুটি স্পিকারকে চেয়ারম্যান করে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার। এই কমিটি প্রস্তাবিত সিস্টেমের কাঠামো, বাস্তবায়নের পদ্ধতি, প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করবে। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন আয়োজনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সেখানে সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করবে, এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, বাস্তবায়নের পরিকল্পনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যবস্থা চালু হলে সংসদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও নথি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে কাগজের ব্যবহার কমার পাশাপাশি সময় ও প্রশাসনিক ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে সংসদীয় কাজের গতি, দক্ষতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়তে পারে।

ই-পার্লামেন্ট বাস্তবায়নের জন্য কারিগরি ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করতে ইউএনডিপি, দাতা দেশ এবং দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রকল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পর্যায়ে এসব সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পেপারবিহীন সংসদ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থা বাস্তবায়নের এই উদ্যোগকে সংসদীয় কার্যক্রমকে প্রযুক্তিনির্ভর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবিত কমিটি সিস্টেমের কাঠামো, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার কথা রয়েছে।

ই-পার্লামেন্ট

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!