যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক চাপ ফেলবে না বোয়িং কেনা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৫ PM | সর্বশেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৬ PM ৪১
অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক চাপ ফেলবে না বোয়িং কেনা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

দেশের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, উড়োজাহাজের মূল্য একবারে পরিশোধ করতে হবে না; দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে অর্থ পরিশোধ করা হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বোয়িং কেনার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দায়িত্ব নিলেও রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো থেমে থাকতে পারে না। নতুন উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধ দীর্ঘ মেয়াদে হওয়ার কারণে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত থাকবে।

তিনি জানান, উড়োজাহাজগুলো হাতে পেতেও দীর্ঘ সময় লাগবে। ফলে এখনই বড় অঙ্কের অর্থ একসঙ্গে পরিশোধের প্রয়োজন হচ্ছে না। সরকারের প্রত্যাশা, এর মধ্যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে এবং উড়োজাহাজ কেনার কারণে অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হবে না।

বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাস কেনার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরোপের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকেও উড়োজাহাজ কেনা হতে পারে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। ফলে এসব বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত জনবল এবং কারিগরি সক্ষমতা আগে থেকেই রয়েছে। এ কারণেই বোয়িংয়ের প্রতি সরকারের কিছুটা অগ্রাধিকার থাকলেও এয়ারবাসকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ২০২৭ সালে সম্ভাব্য এল নিনো পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদন, দাম ও দুর্যোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান খাদ্য মজুত পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক হলেও ভবিষ্যতের ঝুঁকি বিবেচনায় মজুত আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংঘাতে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি সারের সরবরাহ নিয়েও সরকার নজর রাখছে।

জ্বালানি ও সার পরিবহনে হরমুজ প্রণালির গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় খাদ্যের পাশাপাশি সারের মজুতও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এল নিনোর কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে কোনো ঘাটতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় মজুত ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!