যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে দক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ার ওপর জোর আইজিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ PM ৫৩
সাইবার অপরাধ ঠেকাতে দক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ার ওপর জোর আইজিপির

ছবি:সংগৃহীত

সাইবার অপরাধের ধরন ও প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বদলে যাওয়ায় পুলিশ সদস্যদের তদন্ত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

রোববার সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের মামলা তদন্ত বিষয়ে ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর ও অতিরিক্ত আইজি কাজী মো. ফজলুল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআইজি (ট্রেনিং) একরামুল হাবিব।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং-২) ড. শেহেলা পারভীন সাইবার অপরাধ তদন্তের প্রশিক্ষণ রোডম্যাপ ও তা বাস্তবায়নের কৌশল তুলে ধরেন। এ সময় পুলিশ স্টাফ কলেজের অনুষদ সদস্য এবং বিভিন্ন রিসোর্স পার্সন উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ, ক্লাউড কম্পিউটিংসহ বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তি মানুষের জন্য যেমন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জও আনছে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অপরাধীরা অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইন হয়রানি এবং ডিজিটাল চাঁদাবাজির মতো অপরাধ করছে। এসব অপরাধের বিস্তার ঠেকাতে প্রচলিত পুলিশিংয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

আইজিপির মতে, সাইবার অপরাধের তদন্তে বিশেষ দক্ষতা অর্জন এখন আধুনিক পুলিশিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবর্তিত অপরাধের ধরন বিবেচনায় তদন্তকারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান হালনাগাদ রাখা জরুরি।

টিওটি কোর্সে অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; অন্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান মাঠপর্যায়ের অন্যান্য তদন্তকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে সাইবার অপরাধ তদন্তে দক্ষ কর্মকর্তার সংখ্যা দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, একজন প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা যদি অন্য তদন্তকারীদের কার্যকরভাবে প্রশিক্ষণ দিতে পারেন, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশের সাইবার অপরাধ তদন্ত সক্ষমতা আরও বিস্তৃত করা যাবে।

সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এই প্রশিক্ষণ আয়োজন করায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং উইং এবং পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান আইজিপি। পাশাপাশি তিনি সাইবার অপরাধ তদন্ত বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং প্রশিক্ষণ মডিউল ও উপকরণ সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হালনাগাদ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

সাইবার অপরাধ তদন্ত পুলিশের সাইবার সক্ষমতা

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!