পুলিশ পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; ছবি: সংগৃহীত
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের জন্য পৃথক বিশেষায়িত ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আগামী সপ্তাহেই ইউনিটটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত পুলিশ পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ পরিকল্পনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন ইউনিটটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি)। পুলিশ সদর দপ্তরে এ ধরনের পদ না থাকলে সেটি নতুন করে সৃষ্টি করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নয়, মহানগর, বিভাগ ও জেলা পর্যায়েও ইউনিটটির শাখা রাখার কথা জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, থানা ও জেলা পর্যায়েও সাইবার অপরাধ বিশ্লেষণের জন্য আধুনিক সরঞ্জাম থাকবে। তুলনামূলক জটিল ঘটনাগুলো কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেওয়া হবে, আর স্থানীয়ভাবে বিশ্লেষণ সম্ভব এমন বিষয় সংশ্লিষ্ট থানা, জেলা বা বিভাগেই নিষ্পত্তির উদ্যোগ থাকবে।
ডিজিটাল তদন্তের সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের ফরেনসিক ল্যাব ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা পুলিশ সদর দপ্তর এবং বিভাগীয় পর্যায়ে রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ইউনিটটির অবকাঠামো ও প্রকল্প প্রণয়নের বিষয়ে কয়েক সপ্তাহ আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি থানা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল ফরেনসিক ও সাইবার ল্যাব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও এর আগে জানিয়েছিলেন তিনি।
সাইবার অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হওয়াকে নতুন ইউনিট গঠনের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ এখন আধুনিক অপরাধপ্রবণতার অংশ হয়ে উঠেছে। এ কারণে নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব ও শৃঙ্খলা নিয়েও কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর দাবি, পুলিশের কেউ কেউ এখনো ‘ফ্যাসিবাদের সঙ্গে’ যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সরবরাহ করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। এটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য; অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রতিবেদনে পৃথক কোনো তদন্ত-ফলাফল উপস্থাপন করা হয়নি।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, পুলিশের প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষাগত পটভূমির সদস্যদের কাজে লাগিয়ে বিশেষায়িত ইউনিটটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া চীনের সঙ্গে সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। চীনা বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেওয়া এবং দেশটির সাইবার ল্যাব পরিদর্শনের জন্য পুলিশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনার কথা সম্প্রতি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!