যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের মদের চার গুদামে সিলগালা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২২ PM ৫৭
সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের মদের চার গুদামে সিলগালা

দক্ষিণ গুলশানে টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডে যৌথ অভিযানের পর সিলগালা করা ওয়্যারহাউস। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করেছে যৌথ তদন্তকারী দল। অনুমোদিত সীমার বাইরে শুল্কমুক্ত পণ্য, বিশেষ করে বিদেশি মদ, মজুত রাখার অভিযোগে বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত ওয়্যারহাউস ছিল দুটি। তবে যৌথ পরিদর্শনে চারটি গুদামে পণ্য সংরক্ষণের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে দুটি গুদাম অনুমোদনের আওতাভুক্ত ছিল না। পরবর্তী যাচাই ও তদন্তের স্বার্থে চারটি গুদামই সিলগালা করা হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১ (এসআরবি-১) বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযান শুরু করে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে এই কার্যক্রম। এনবিআর জানিয়েছে, পরিদর্শনের সময় প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু অসংগতি ধরা পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও যাচাই অব্যাহত রয়েছে।

টস বন্ড একটি কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস হিসেবে বিদেশি কূটনীতিক ও অনুমোদিত ব্যক্তিদের জন্য শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে সরিয়ে নেওয়ার যে অভিযোগ রয়েছে, সেটি এখনো তদন্তাধীন; অভিযোগটি প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযানের সময় মজুত পণ্যের হিসাব, প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ও নথিপত্রও যাচাই করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সফটওয়্যারে কিছু পণ্য গুদাম থেকে ছাড় দেখানো হলেও সরেজমিনে সেগুলোর অংশবিশেষ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে শেখ নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের ব্যবসা, সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন নিয়েও সরকারি সংস্থাগুলোর অনুসন্ধানের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। বিদেশে সম্পদ, নাগরিকত্ব, কর ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত শেষ হওয়ার পরই জানা যাবে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গুদাম সিলগালার অভিযানটি রাজস্ব ও শুল্কসংক্রান্ত অনিয়ম যাচাইয়ের অংশ। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনার সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে দক্ষিণ মানিকদীর নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই ঘটনার পর তিনি ফেসবুক লাইভে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছিলেন। পরে ওই ঘটনায় মামলা হয় এবং তদন্তের অংশ হিসেবে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের খবর আসে। পৃথকভাবে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটও তাঁর ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!