যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কদমতলীতে অটোরিকশাচালক ইমন হত্যা: আসামি আল-আমিনের যাবজ্জীবন

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৩ PM ৫৩
কদমতলীতে অটোরিকশাচালক ইমন হত্যা: আসামি আল-আমিনের যাবজ্জীবন

ছবি:সংগৃহীত

রাজধানীর কদমতলীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক কিশোর ইমন কাজী হত্যা মামলায় মোহাম্মদ আল-আমিন শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৩-এর বিচারক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরী এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

হত্যার দায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আল-আমিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া হত্যার আলামত নষ্ট ও মরদেহ গুমের অভিযোগে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়েছে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড হবে। আদালত জানিয়েছে, দুই সাজা একই সময়ে কার্যকর হবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ইমন কাজী। ওই রাতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে গেন্ডারিয়ার ফরাশগঞ্জ মাপুর মাজার এলাকার কাছ থেকে চালকবিহীন অটোরিকশা ও ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর পশ্চিম মোহাম্মদবাগের সোনামাবিয়া জামে মসজিদের পাশের একটি ঝোপ থেকে ইমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হাত-পা বাঁধা এবং বস্তাবন্দী অবস্থায় পাওয়া মরদেহটি ছিল অর্ধগলিত।

এ ঘটনায় ইমনের বাবা কদমতলী থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তে পুলিশ জানায়, পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ এবং ৫ হাজার টাকা ধারসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

তদন্ত অনুযায়ী, ইমনকে ভাড়া বাসায় ডেকে কোকের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে বস্তা ও রশি কিনে মরদেহটি নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

২০২৩ সালের ৫ জুন বরিশালের হিজলা উপজেলার গোবিন্দপুর খয়া এলাকা থেকে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাড়া বাসা থেকে রক্তমাখা বিছানার চাদর ও ইমনের স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন তিনি।

২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। একই বছরের ২০ অক্টোবর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত। মামলার বিচারকাজে মোট ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

অটোরিকশাচালক ইমন হত্যা ইমন হত্যা মামলার রায় আল-আমিনের যাবজ্জীবন

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!