ছবি:সংগৃহীত
জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর সাত বছরের এক শিশুর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই এলাকার জামিনুর (৩২) ও তাঁর স্ত্রী সবুজা বেগমকে (২৫) আটক করা হয়েছে।
নিহত শিশুটির নাম মরিয়ম। সে সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার চর লোটাবর এলাকার বাহাদুর মণ্ডলের মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে বের হয় মরিয়ম। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সে বিদ্যালয়ে পৌঁছালেও সেদিন স্কুল খোলা ছিল না। স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে থাকতে দেখেছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এরপর থেকেই শিশুটির আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
মরিয়মকে খুঁজতে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালান। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিন দিন পর চর লোটাবর এলাকায় জামিনুরের বসতঘরের মাটির নিচে শিশুটির মরদেহ থাকার তথ্য পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে।
মরিয়মের বাবা বাহাদুর মণ্ডল এ ঘটনায় মাদারগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন। উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের মামা শামছুল হক বলেন, মরিয়ম নিয়মিত সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কুলে যেত। ঘটনার দিন স্কুল বন্ধ থাকায় তাকে বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল সে। তিন দিন পর বাড়ির মাটির নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবার শোকাহত। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যার পর মরদেহ মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং শিশুটির মৃত্যুর সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
জামালপুরে শিশু হত্যা মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!