কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২৫৪ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা থেকে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর পর্যন্ত নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং উঠতি বয়সী বখাটেদের আড্ডার স্থান চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে অভিযোগের ধরন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর মধ্যে কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকায় শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং তাঁরা রতন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য।
পুলিশের তথ্যমতে, আটক ব্যক্তিদের একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯)। তিনি নগরের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশের ছেলে। আনিক রতন গ্রুপের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগনে। রতন আত্মগোপনে থাকায় বর্তমানে আনিক গ্রুপটির কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, ২০২২ সালে কিশোর গ্যাং সদস্যদের হাতে সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় আনিক এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন এবং ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবার গ্যাংয়ের কার্যক্রমে যুক্ত হন বলে পুলিশের দাবি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নগরের যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, সেসব জায়গাকে কেন্দ্র করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে ৩৭ জনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিনতাই, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান ওসি। তাঁদের পরিচয় ও অতীতের অপরাধের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। ওই অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কিশোর গ্যাংবিরোধী এই ধারাবাহিক অভিযান শুরু হয়েছে কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর। ওই হত্যাকাণ্ডের পর জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!