বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি খুচরা ব্যবসার উন্নয়নে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে রিটেইল ডিস্ট্রিবিউশন প্ল্যাটফর্ম প্রিয়শপ। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার খুচরা বিক্রেতাকে নিজেদের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করা পাড়ার দোকান, মুদি ব্যবসা, ফার্মেসি ও ছোট খুচরা বিক্রেতারা দীর্ঘদিন ধরে পণ্য সরবরাহ, দামের পরিবর্তন, পরিবহন সমস্যা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য অর্থায়নের সংকটে ভুগে আসছেন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান নিয়ে কাজ করছে প্রিয়শপ।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সরাসরি ব্র্যান্ড, আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থা, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং সহজ অর্থায়ন সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে ছোট ব্যবসায়ীরা আরও সহজে পণ্য সংগ্রহ ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রিয়শপের মূল লক্ষ্য হলো খুচরা বিক্রেতা, বড় ব্র্যান্ড এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি উন্নত সাপ্লাই চেইন, প্রযুক্তিনির্ভর ডেলিভারি ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব লজিস্টিকস ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রিয়শপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিকুল আলম খাঁন বলেন, প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য শুধু ব্যবসা পরিচালনা নয়, বরং বাংলাদেশের খুচরা খাতকে আধুনিক ও শক্তিশালী করা। প্রযুক্তি ও নতুন হাব তৈরির মাধ্যমে সাধারণ দোকানদারদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করাই তাদের লক্ষ্য।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে প্রিয়শপ এ বছর নেত্রকোনা, তারাকান্দা, পূর্বধলা, কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জ, মদন, সোনারগাঁও, মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে।
এর পাশাপাশি কোকা-কোলা বাংলাদেশ, গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের মতো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের সঙ্গে ব্যবসায়িক সহযোগিতা আরও বাড়িয়েছে প্রিয়শপ। এর ফলে ব্র্যান্ডগুলো সরাসরি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে অর্ডার ব্যবস্থাপনা ও ডেলিভারি প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খুচরা খাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রিয়শপ এ বছর ‘সেরা রিটেল স্টার্টআপ’ এবং ‘সেরা বিটুবি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে পুরস্কার অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্যবসার পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নেও কাজ করছে প্রিয়শপ। এআই প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা এবং বিভিন্ন লার্নিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে কর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিত্ব করছে প্রতিষ্ঠানটি। জাতিসংঘের উদ্যোগ, ওয়েব সামিট এবং এশেলনের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশ নিয়ে নিজেদের কার্যক্রম তুলে ধরেছে প্রিয়শপ।
২০২৬ সালের পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। নতুন প্রযুক্তি ও শক্তিশালী অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশের লাখ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে ডিজিটাল সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রিয়শপ।
প্রিয়শপ রিটেইল ব্যবসা
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!