আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দরপতনের মুখে স্বর্ণের দাম ১১ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে ১১ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে নতুন করে সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সুদের হার সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করায় স্বর্ণবাজারে এই চাপ তৈরি হয়েছে।
বুধবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৬ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দামও ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২২৮ ডলারে দাঁড়ায়। এর ফলে মূল্যবান ধাতুটির দাম প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। তেলের দাম বাড়লে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখতে পারে—এমন আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বর্ণ কোনো সুদ বা মুনাফা প্রদান করে না। ফলে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে অনেক বিনিয়োগকারী বন্ড ও অন্যান্য সুদভিত্তিক সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এতে স্বর্ণের চাহিদা কমে এবং বাজারদর নিম্নমুখী হয়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থান আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মূল্যবান ধাতুর বাজারেও। যদিও সাধারণত বৈশ্বিক সংকটের সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চ সুদের হার এবং তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব বাজারকে ভিন্ন দিকে পরিচালিত করছে।
শুধু স্বর্ণই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও পতন দেখা গেছে। সর্বশেষ লেনদেনে রূপার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি প্লাটিনামের দাম ৩ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম প্রায় ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, স্বর্ণের দাম যদি প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০০ ডলারের নিচে নেমে যায়, তাহলে বছরের শেষ নাগাদ আরও বড় ধরনের সংশোধন দেখা যেতে পারে। তাদের ধারণা, অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি না হলে স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি পর্যায়েও নেমে আসতে পারে।
তবে বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের অবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতার ওপর। ফলে বিনিয়োগকারীরা আপাতত সতর্ক অবস্থান বজায় রেখে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!