যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৭ জুন ২০২৬,২ আষাঢ় ১৪৩৩

বাজেটে স্বস্তির বার্তা: ৬০ পণ্যে কর ছাড়, কমতে পারে নিত্যপণ্যের দাম

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ AM

বাজেটে স্বস্তির বার্তা: ৬০ পণ্যে কর ছাড়, কমতে পারে নিত্যপণ্যের দাম

বাজেট ঘিরে সাধারণ মানুষের স্বস্তির প্রত্যাশা। গ্রাফিক্স: সংগৃহীত

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যে দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। আসন্ন বাজেটে প্রায় ৬০ ধরনের পণ্যে কর ছাড় এবং শুল্ক কমানোর প্রস্তাব রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সম্ভাব্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, চিনি, লবণ, মাছ, মাংস, শিশুখাদ্যসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো হতে পারে। বর্তমানে এসব পণ্যে ১ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর থাকলেও তা কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কও প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যয় কমাতে সার ও কীটনাশকের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট ও কর সুবিধা পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। এতে কৃষকের খরচ কমবে এবং বাজারে সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।

শিশুখাদ্য তৈরির কাঁচামালে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি মসলা ও খেজুর আমদানির ওপর ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের কর ছাড় আসতে পারে। ক্যানসারসহ জীবনরক্ষাকারী ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং হার্টের স্টেন্ট ও চোখের লেন্সের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ডায়ালাইসিস চিকিৎসার খরচ কমাতে প্রয়োজনীয় ফিল্টারের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাবও রয়েছে। এতে প্রতি সেশনে কয়েকশ টাকা পর্যন্ত খরচ কমতে পারে।

প্রযুক্তি খাতে মোবাইল সিমের কর প্রত্যাহার এবং ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন আইটি পণ্যের কর হ্রাসের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ডিজিটাল পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গৃহস্থালি পণ্যের মধ্যে ফ্রিজ ও এয়ার কন্ডিশনারের ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামে ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতির পরিকল্পনাও রয়েছে।

অন্যদিকে কিছু খাতে রাজস্ব বাড়াতে রড, সিগারেট ও মদের ওপর কর বৃদ্ধি হতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহের কৌশল নিলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমতে পারে।

সব মিলিয়ে এবারের বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে সরকার।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!