ঢাকার ইউনূস সেন্টারে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ইন্দোনেশীয় প্রতিনিধিদলের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
ক্ষুদ্রঋণ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক ব্যবসার অভিজ্ঞতা জানতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইন্দোনেশিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসব উদ্যোগ কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে, সে বিষয়ে ইউনূসের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা চেয়েছেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ইউনূস সেন্টারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিস লিস্তিয়াওয়াতির নেতৃত্বে দেশটির জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। দীর্ঘ সময়ের আলোচনায় ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, তরুণ উদ্যোক্তা, কৃষি এবং সামাজিক ব্যবসার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।
ইন্দোনেশীয় প্রতিনিধিদল বিশেষভাবে জানতে চায়, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের কাজকে ইন্দোনেশিয়ার নিজস্ব বাস্তবতায় কীভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব। এ সময় সামাজিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্রঋণকে ঘিরে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং মাঠপর্যায়ে কাজ দেখার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূসকে ইন্দোনেশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা ও ধারণা বিনিময়ের অনুরোধও জানান প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। কৃষিনীতি বিষয়ক মন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা অধ্যাপক স্যাম হেরোডিয়ান ইন্দোনেশিয়ার কৃষিমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ইউনূসের কাছে পৌঁছে দেন। পাশাপাশি কৃষিমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে তাকে ইন্দোনেশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন কৃষি সহযোগিতা ব্যুরোর প্রধান ড. আদে চান্দ্রাদিজায়া, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান মি. হারিওয়ান পুজা উইলাপা এবং আইপিবি ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল কানেক্টিভিটি, কো-অপারেশন অ্যান্ড অ্যালামনাইয়ের ভাইস রেক্টর অধ্যাপক ড. ইস্কান্দার। এছাড়া ঢাকায় ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসের তৃতীয় সচিব রোব্বি ফিরলি হারখা ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কর্মকর্তা আছমাদ চানিফুদ্দিনও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময়কে স্বাগত জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার মতো উদ্যোগের বিস্তারে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন, মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
তার মতে, তরুণদের সমাজে কার্যকরভাবে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। নিজেদের শক্তি, উদ্যম ও সৃজনশীলতাকে ইতিবাচক পরিবর্তনের কাজে ব্যবহারের সুযোগ পেলে তারা সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ এবং গ্রামীণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসমিনা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
ক্ষুদ্রঋণ তরুণ উদ্যোক্তা
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!