ছবি:সংগৃহীত
দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করতে ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং সহজলভ্য প্রযুক্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার টেকসই উন্নয়নের পথকে আরও সহজ করতে পারে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। দ্রুতগতির ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ছাড়া ডিজিটাল আর্থিক সেবার পূর্ণ সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়।
গ্রামীণ উৎপাদক ও কারিগরদের ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদকদের চিহ্নিত করে তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তির সহজলভ্যতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে তুলনামূলক কম দামে স্মার্টফোন উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়ছে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে কৃষকেরা আবহাওয়ার তথ্য, সারের প্রয়োজনীয়তা এবং কৃষিপণ্যের বাজারদর সম্পর্কে জানতে পারছেন।
সামাজিক নিরাপত্তা ও ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাতা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়ার উদ্যোগ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদ্ভাবন ও ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গ্রামীণ অর্থনীতি ডিজিটাল অর্থনীতি
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!