যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

ছয় মাসে জ্বালানি তেল আমদানিতে বিপিসির বাড়তি ব্যয় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ PM | সর্বশেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৮ PM ৬৬
ছয় মাসে জ্বালানি তেল আমদানিতে বিপিসির বাড়তি ব্যয় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে গত ছয় মাসে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেল আমদানিতে সংস্থাটির অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

বিপিসি চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং আমদানি-সংশ্লিষ্ট ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তবে দেশের ভোক্তাদের ওপর চাপ কম রাখতে দীর্ঘ সময় অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম তুলনামূলক সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এর ফলে বিপিসিকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের হিসাবে, ছয় মাসে এই বাড়তি ব্যয়ের মাসিক গড় প্রায় ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ও পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে প্রতি মাসেই বিপিসির ওপর কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, শুধু জ্বালানি তেলের মূল দামই নয়, পরিবহন ও হ্যান্ডলিং খরচও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগে জাহাজের ফ্রেইট চার্জ প্রতি ইউনিট ৩ থেকে ৪ ডলারের মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তা ১৫ থেকে ১৭ ডলারে উঠেছে। ফলে এ খাতে ব্যয় আগের তুলনায় প্রায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়েছে।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করা হলে বিপিসিকে প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার ৮০০ কোটি থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় করতে হতো বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে দেশে জ্বালানি তেলের দামও সমন্বয় করা হয়েছে।

এদিকে বিপিসির হিসাবে, দেশে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ডিসেম্বর পর্যন্ত সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা নেই এবং পাশাপাশি আমদানির কার্যক্রমও চালু রয়েছে।

বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী ডিজেলে বিপিসির লিটারপ্রতি লোকসান প্রায় ৭০ টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। শুধু ডিজেল আমদানিতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা হতে পারে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বছরে শুধু ডিজেলেই লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

বিপিসি চেয়ারম্যানের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি আরও ২০ টাকা সমন্বয় করা হলে বছরে সংস্থাটির প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার লোকসান কমানো সম্ভব হবে। তবে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের ভোক্তাদের ওপর প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বিপিসি জ্বালানি তেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!