ছবি:সংগৃহীত
দেশে প্রায় চার কোটি মানুষ এখনো সাক্ষরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগের বাইরে রয়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা খাতের বাজেটের বড় অংশ শিক্ষার মান উন্নয়ন, ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে ফেরানো, সাক্ষরতা বাড়ানো এবং দক্ষতা তৈরির কাজে ব্যয় করা প্রয়োজন।
শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ না দিয়ে শিক্ষার প্রকৃত মানোন্নয়ন ও মানুষের জ্ঞান-দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের শুধু পড়তে ও লিখতে পারার সক্ষমতা অর্জন করাই যথেষ্ট নয়। এমন শিক্ষা দরকার, যা ব্যক্তির জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি মূল্যবোধ ও কর্মদক্ষতা গড়ে তুলবে।
তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতা কর্মসূচির পাশাপাশি কর্মমুখী দক্ষতা তৈরির ব্যবস্থা করা গেলে তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার সুযোগ বাড়বে।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, দেশের উন্নয়নে মানবসম্পদকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হলে শিক্ষার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের আওতায় এনে তাদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার এবং অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬ ববি হাজ্জাজ
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!