যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬,১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

উন্নয়নের কারিগর প্রকৌশলীরা কেন সিদ্ধান্তের টেবিলের বাইরে?

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩ PM

উন্নয়নের কারিগর প্রকৌশলীরা কেন সিদ্ধান্তের টেবিলের বাইরে?

দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর খাতের নীতিনির্ধারণে প্রকৌশলীদের অংশগ্রহণ কমে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট খাতের অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের আরও বেশি যুক্ত করা প্রয়োজন।

প্রকৌশলীদের মতে, গ্যাস অনুসন্ধান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি নিরাপত্তা, এলএনজি, তেল পরিশোধন, পাইপলাইন, যোগাযোগ ও বড় অবকাঠামো প্রকল্পের মতো খাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কারিগরি জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে পেশাদার প্রকৌশলীদের উপস্থিতি না থাকলে প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থায় প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রাধান্য বাড়ছে। এর ফলে প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও খাতভিত্তিক জ্ঞানের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট খাতের অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কারণ তারা প্রকল্পের বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা রাখেন।

জ্বালানি খাতের বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রকৌশলীরা। তাদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রকৌশলীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ক্রমেই প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। এতে কারিগরি খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও কার্যকর করতে হলে প্রকৌশলী, স্থপতি, অর্থনীতিবিদ ও অন্যান্য পেশাজীবীদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত করা প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব প্রকৌশলী এএনএইচ আখতার হোসেন বলেন, সরকারি বিভিন্ন বোর্ড ও কমিটিতে আগে সংশ্লিষ্ট খাতের পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ বেশি ছিল। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে সেই সুযোগ কমে গেছে।

তার মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে প্রকৌশলী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, আইনজীবী ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এ্যাব) নেতারা বলছেন, কারিগরি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পেশাদারদের ভূমিকা নিশ্চিত না হলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাদের মতে, যে খাতে যে ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্বাচন করা উচিত।

ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) নেতারাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং কার্যকর ফলাফল নিশ্চিত করতে কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রকৌশলীদের নেতৃত্ব বাড়ানো প্রয়োজন।

তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন প্রকৌশলী নেতারা।

প্রকৌশলীদের বক্তব্য, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় জরুরি। নীতিনির্ধারণে পেশাগত ভারসাম্য নিশ্চিত করা গেলে দেশের অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাত আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে যেতে পারে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!