ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। একদিনেই অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ, যা গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষকদের বরাতে জানা গেছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ২৯ ডলার। আগের দিনের তুলনায় যা ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের প্রধান সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৭৩ ডলার বা ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।
দাম বৃদ্ধির পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ৮৩ দশমিক ৩০ ডলারে। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ১৪ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেলের বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার শুরু থেকেই তেলের দাম বাড়তে থাকে। ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালিতে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজ নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার পর বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
গত ২ এপ্রিল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক পর্যায়ে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১২ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা চলমান সংকটের সময়ে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম ঘটনা।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার খবরের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ায় আবারও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনীর ভূমিকার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ টোল আরোপের প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে নতুন করে অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু তেলের দাম নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও পরিবহন খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ইরান
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!