ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বাঙালি নদীর তীব্র ভাঙনে একের পর এক গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা, আবাদি জমি ও জীবিকার উৎস হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, খানপুর ইউনিয়নের চকখানপুর গ্রামের হাওলাদারপাড়ায় গত প্রায় ১৫ বছরে শতাধিক পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। একসময় যেখানে অসংখ্য পরিবার বসবাস করত, সেখানে এখন হাতে গোনা কয়েকটি ঘর টিকে আছে। নদীর অব্যাহত ভাঙনে এসব ঘরও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
শুধু চকখানপুর নয়, উপজেলার বড়ইতলী, দহখানপুর, সুঘাট, বিনোদপুর, চকপাহাড়ি, ঘাসুরিয়া, নলুয়া, ঝাজর ও করতোয়া নদীর তীরবর্তী আরও কয়েকটি এলাকাতেও ভাঙন দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। এতে বসতবাড়ির পাশাপাশি বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, অনেক পরিবার একাধিকবার বাড়িঘর সরিয়ে নতুন স্থানে বসতি গড়েছে। কিন্তু এখন অনেকের কাছেই নতুন করে ঘর তৈরির মতো জমি অবশিষ্ট নেই। দিন-রাত নদীর পাড় ভেঙে পড়ার শব্দে আতঙ্কে কাটছে তাঁদের জীবন।
সীমাবাড়ি ইউনিয়নের ঘাসুরিয়া গ্রামেও নদীভাঙনের কারণে বেশ কয়েকটি পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। অনেক বাড়ির রান্নাঘর কিংবা বসতঘরের অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করলেও আর কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
এদিকে নলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের ভবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, নদীভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) জানানো হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন অর্থবছরের বরাদ্দ পাওয়ার পর নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করা হবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বর্ষা মৌসুমে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বহু পরিবার তাদের শেষ সম্বলটুকুও হারাবে।
বগুড়া নদীভাঙন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!