ছবি: সংগৃহীত
উত্তর ইরাকের কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র খোর মোরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, সুলাইমানিয়া এলাকায় অবস্থিত এই গ্যাসক্ষেত্রে সোমবার রাতে হামলা চালানো হয়।
খোর মোর গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তর ইরাকের কুর্দি অঞ্চলের বেশির ভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। ফলে এই স্থাপনায় হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
একই সময়ে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে কুর্দি আঞ্চলিক রাজধানী এরবিলেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে বিস্ফোরণের শব্দ ও আগুনের দৃশ্য দেখা গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এরবিলের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। এর মধ্যে মার্কিন কনস্যুলেটের আশপাশের এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এরবিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খালিফান ও সোরান এলাকায় কয়েকটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর ওই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। কয়েকটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর কাছে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
হামলার জবাবে এরবিলের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। তবে হামলার দায় বা বিস্তারিত তথ্য নিয়ে এখনো বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পর সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। এর আগে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অভিযান স্থগিত করার কথা জানিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তর ইরাকের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উত্তর ইরাক ড্রোন হামলা
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!