যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

সীতাকুণ্ডে পাহাড়-সমুদ্র-ঝরনার টানে ঘুরে দেখুন ৯ দর্শনীয় স্থান

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪২ PM ৯৮
সীতাকুণ্ডে পাহাড়-সমুদ্র-ঝরনার টানে ঘুরে দেখুন ৯ দর্শনীয় স্থান

সীতাকুণ্ডের পাহাড়, ঝরনা ও উপকূলীয় সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে; ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একসঙ্গে দেখা মেলে পাহাড়, বন, ঝরনা ও সমুদ্রের। এ বৈচিত্র্যের কারণে সীতাকুণ্ডের দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে আকর্ষণের কেন্দ্র। চন্দ্রনাথ পাহাড়, সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক, ঝরঝরি ও কমলদহ ট্রেইল, গুলিয়াখালী ও বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত এবং কুমিরা ঘাট—প্রকৃতিনির্ভর ভ্রমণের জন্য এসব জায়গা বিশেষভাবে পরিচিত।

পাহাড়, বন ও ঝরনার টানে

সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের অন্যতম পরিচিত গন্তব্য চন্দ্রনাথ পাহাড়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ১৫২ ফুট উচ্চতার এই পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে একটি ঐতিহাসিক মন্দির। পাহাড়ে ওঠার পথ, চারপাশের সবুজ এবং ওপর থেকে দেখা প্রাকৃতিক দৃশ্য এ স্থানটির আকর্ষণ বাড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সীতাকুণ্ড ইকোপার্কও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য উল্লেখযোগ্য গন্তব্য। পার্কটিতে বিভিন্ন ধরনের গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর পাশাপাশি সহস্রধারা ও সুপ্তধারা ঝরনা রয়েছে।

অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য ঝরঝরি ও কমলদহ ট্রেইল আলাদা অভিজ্ঞতা দিতে পারে। পাহাড়ি পথে হাঁটার পাশাপাশি এসব এলাকায় ঝিরিপথ ও ঝরনার দেখা মেলে। তবে ট্রেইলে চলাচলের ক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা ও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।

সমুদ্রের কাছে অন্যরকম অভিজ্ঞতা

সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় এলাকাতেও রয়েছে বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় স্থান। স্থানীয়ভাবে ‘মুরাদপুর বিচ’ নামে পরিচিত গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিস্তীর্ণ সবুজ ঘাসের এলাকা ও প্রাকৃতিক নালার মতো আঁকাবাঁকা জলপথ।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যাওয়া লোহার ব্রিজটি দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। বিশেষ করে বিকেলের সূর্যাস্তের সময় এখানকার পরিবেশ ভ্রমণকারীদের দৃষ্টি কাড়ে।

কুমিরা ঘাটও উপকূলীয় ভ্রমণের তালিকায় রাখা যায়। দীর্ঘ জেটি, সন্দ্বীপ চ্যানেল এবং আশপাশে নোঙর করা বড় জাহাজের দৃশ্য এ এলাকার আলাদা বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছে।

যাতায়াত ও থাকার ব্যবস্থা

সড়ক ও রেল—দুই পথেই সীতাকুণ্ডে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকেও বাস কিংবা ট্রেনে সরাসরি সীতাকুণ্ডে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকদের জন্য জায়গাটি তুলনামূলকভাবে সহজে পৌঁছানো সম্ভব।

সীতাকুণ্ডে সাধারণ মানের কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। হোটেল সাইমুন ও হোটেল সৌদিয়ার নাম উল্লেখযোগ্য। তবে দীর্ঘ সময় থাকার পরিকল্পনা থাকলে অনেক পর্যটক চট্টগ্রাম শহরে থাকার ব্যবস্থা করেন।

ভ্রমণের সময় প্রকৃতি ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। গুলিয়াখালী ও বাঁশবাড়িয়া সৈকতে যাওয়ার আগে জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নেওয়া এবং সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। পাহাড়ি ট্রেইল ও ঝরনা এলাকায় প্লাস্টিক, পলিথিনসহ অপচনশীল বর্জ্য না ফেলে পরিবেশ পরিষ্কার রাখাও পর্যটকদের দায়িত্ব।

প্রকৃতির ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে দায়িত্বশীলভাবে ভ্রমণ করলেই সীতাকুণ্ডের পাহাড়, ঝরনা ও উপকূলীয় পরিবেশের সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব।

চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড পাহাড় বন ঝরনা সমুদ্র চন্দ্রনাথ পাহাড় সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত কুমিরা ঘাট পর্যটক মুরাদপুর বিচ অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী প্রকৃতিপ্রেমী

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!