যুক্তরাষ্ট্র   বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১ আশ্বিন ১৪৩৩

‘শুধু হিন্দুরাই বৃত্তি পেয়েছে’, সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর দাবি ভাইরাল

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৯ AM | সর্বশেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ AM ১০৯
‘শুধু হিন্দুরাই বৃত্তি পেয়েছে’, সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর দাবি ভাইরাল

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর পোস্টের স্ক্রিনশট। ছবি: ‘দ্য ডিসেন্ট’ থেকে নেওয়া

মাগুরার শালিখা উপজেলার শিক্ষার্থীদের একটি উপবৃত্তির তালিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, তালিকায় শুধু হিন্দু শিক্ষার্থীদের নাম রয়েছে এবং মুসলিম শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও তথ্য যাচাইকারী সংস্থার মতে, এ দাবি সঠিক নয়। তালিকাটি একটি বিশেষ সরকারি কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে আরও দাবি করা হয়, মাগুরা-২ আসনের একটি বৃত্তির তালিকায় কোনো মুসলিম শিক্ষার্থীর নাম নেই এবং সব উপকারভোগী হিন্দু সম্প্রদায়ের। এ দাবিও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরী জানান, এটি নতুন কোনো তালিকা নয়। প্রতিবছরই সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। মাগুরার চারটি উপজেলাতেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে এবং নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী তাদের মধ্য থেকেই উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়।

তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্ট-এর অনুসন্ধানেও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রচারিত তালিকাটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তালিকার অংশ।

এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন। এর আওতায় দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তির পাশাপাশি বসতঘর, বাইসাইকেল, সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন যোগ্য উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে।

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা কীভাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিচয় ধর্মের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় না। কোনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য হিন্দু, মুসলিম বা অন্য ধর্মাবলম্বী হতে পারেন। শালিখা উপজেলায় বর্তমানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত মুসলিম জনগোষ্ঠী নেই। থাকলে তারাও একই কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পেতেন।

২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনার তথ্য অনুযায়ী, মাগুরা জেলায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা ৮ হাজার ৫৪৮ জন, যা জেলার মোট জনসংখ্যার প্রায় শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে যে তালিকাটি ছড়িয়েছে সেখানে ৩২ জন শিক্ষার্থীর নাম দেখা গেলেও পূর্ণাঙ্গ তালিকায় মোট ৬৪ জন উপকারভোগী রয়েছেন। একই পরিবারের একাধিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, যোগ্য কোনো উপকারভোগীকে বাদ দেওয়া হয়নি এবং ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!