যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬,১৮ কার্তিক ১৪৩৩

শিরক ছাড়াও যে ২ পাপের জন্য রয়েছে ভয়ংকর শাস্তি

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৮ PM | সর্বশেষ আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৯ PM ১০৭

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে গুনাহ বা পাপ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বিভিন্ন গুনাহের পরিণতি সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ইসলামী শিক্ষায় এমন কিছু কবিরা গুনাহের কথা বলা হয়েছে, যেগুলোর পরিণতি দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় ক্ষেত্রেই ভয়াবহ হতে পারে।

তবে ইসলাম একই সঙ্গে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, মানুষের ওপর যে বিপদ আসে তা অনেক সময় তাদের নিজেদের কাজের ফল; আবার আল্লাহ অনেক কিছু ক্ষমা করে দেন। তাই গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার পাশাপাশি তওবা ও সৎ আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

ইসলামী শরিয়তে শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ হিসেবে বিবেচিত। এর বাইরে আরও বেশ কিছু গুরুতর কবিরা গুনাহ রয়েছে, যেগুলোর ব্যাপারে কোরআন ও হাদিসে কঠোর সতর্কতা এসেছে। এর মধ্যে অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা এবং বাবা-মায়ের অবাধ্যতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

 

অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা

অন্যায়ভাবে কোনো মানুষকে হত্যা করা ইসলামে গুরুতর কবিরা গুনাহ। মানুষের জীবনকে অত্যন্ত সম্মানিত ও মূল্যবান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই অন্যায়ভাবে একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে।

হাদিসে কবিরা গুনাহের মধ্যে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, মানুষ হত্যা, বাবা-মায়ের অবাধ্যতা এবং মিথ্যা বলা বা মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় এসব গুনাহের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ৯৩ নম্বর আয়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করার ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে এমন ব্যক্তির জন্য জাহান্নাম, আল্লাহর ক্রোধ ও অভিশাপ এবং মহাশাস্তির কথা বলা হয়েছে।

এ থেকে বোঝা যায়, ইসলামে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যায়ভাবে মানুষের জীবন নেওয়া শুধু সামাজিক ও নৈতিক অপরাধ নয়, ইসলামী দৃষ্টিতেও এটি অত্যন্ত গুরুতর গুনাহ।

 

বাবা-মায়ের অবাধ্যতা

বাবা-মায়ের সঙ্গে সদাচরণ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশ দেওয়ার পরপরই বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো আচরণের কথা বলা হয়েছে।

সুরা ইসরার ২৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, বাবা-মায়ের একজন অথবা উভয়ে বার্ধক্যে পৌঁছালে তাদের বিরক্তির সামান্য প্রকাশও করা যাবে না। এমনকি তাদের ‘উফ’ বলতেও নিষেধ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে সম্মানজনক ও সুন্দরভাবে কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বাবা-মায়ের অবাধ্যতাকে ইসলামে গুরুতর কবিরা গুনাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে হাদিসেও কঠোর সতর্কতা রয়েছে।

সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন ব্যক্তির দুর্ভাগ্যের কথা বলেছেন, যে তার বাবা-মায়ের একজন বা উভয়কে বার্ধক্যে পেয়েও তাদের সেবা ও সদাচরণের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।

অর্থাৎ বাবা-মায়ের বার্ধক্যকে বোঝা হিসেবে না দেখে তাদের সেবা ও সম্মান করার সুযোগ হিসেবে দেখার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তারা যখন বয়সের কারণে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তখন তাদের প্রতি সদাচরণ ও দায়িত্বশীল আচরণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

হাদিসে বাবা-মায়ের অধিকারের গুরুত্ব বোঝাতে তাদের সন্তানের জান্নাত ও জাহান্নামের কারণ হওয়ার কথাও এসেছে। এর মাধ্যমে বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের আচরণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝানো হয়েছে।

ইসলামী শিক্ষায় তাই শুধু নামাজ, রোজা ও অন্যান্য ইবাদতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়নি; মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ এবং বিশেষ করে বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালনকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করা হয়েছে।

পরকালে সফলতা লাভের জন্য গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার পাশাপাশি আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো আদর্শ অনুসরণ এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো গুনাহ হয়ে গেলে আন্তরিকভাবে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিরক কবিরা গুনাহ মানুষ হত্যা বাবা-মায়ের অবাধ্যতা ইসলাম কোরআন হাদিস

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!