যুক্তরাষ্ট্র   বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১ আশ্বিন ১৪৩৩

মহানবীর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৪ PM | সর্বশেষ আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৯ PM ৮০
মহানবীর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেছেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশনা। বর্তমান বিশ্বে হিংসা, সংঘাত, অসহিষ্ণুতা ও বৈষম্য থেকে উত্তরণের জন্য মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মহানবী (সা.) মানবজাতির হেদায়েত, কল্যাণ ও মুক্তির জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসুল হিসেবে পৃথিবীতে আগমন করেন। তার জীবন ও কর্মে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, মানবিকতা ও মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর আগমন মানব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী ঘটনা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠীর পার্থক্য অতিক্রম করে তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য কল্যাণ ও মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছিলেন। তার ওপর নাজিল হওয়া পবিত্র কোরআন মানবজাতিকে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থার দিকনির্দেশনা দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির বাণীতে মহানবী (সা.)-এর সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায় ও মানবিকতার শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি বলেন, মহানবী (সা.) তার জীবনাচরণ ও কর্মের মাধ্যমে মানুষের মর্যাদা রক্ষা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।

এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। নারী, শিশু, প্রতিবেশী ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় তার দেওয়া নির্দেশনা মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিদায় হজের ভাষণে মহানবী (সা.) মানবিক মর্যাদা, অধিকার, সাম্য, ন্যায় এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধের যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা কোনো নির্দিষ্ট সময় বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এসব মূল্যবোধ বর্তমান বিশ্বেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শ আরও বেশি প্রয়োজন।

তিনি ঈদে মিলাদুন্নবীর পবিত্র সময়ে সবাইকে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করার আহ্বান জানান।

বাণীর শেষাংশে রাষ্ট্রপতি মহান আল্লাহর কাছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মানুষের শান্তি, কল্যাণ, রহমত ও বরকত কামনা করেন এবং সবাইকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!