ছবি : সংগৃহীত
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ইজলামারী ভন্দুরচর সীমান্তে টানা ১৪ দিন ধরে শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিন যুবক। স্থানীয়দের দাবি, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে সীমান্তে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই তারা দুই দেশের সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থান করছেন।
জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তিন যুবক এখনও শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন এবং বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খোলা আকাশের নিচে পলিথিন বিছিয়ে দিন কাটাচ্ছেন ওই তিন যুবক। রোদ থেকে বাঁচতে তারা নিজেদের পোশাক দিয়েই অস্থায়ী ছায়ার ব্যবস্থা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিন যুবক নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে পরিচয় দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, একজন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর এবং অপরজন নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ঝড়-বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি ক্যাম্প থেকে তাদের খাবার সরবরাহ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
গত ১৪ জুন ভোরে একই সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশু ও কয়েকজন যুবককে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান। পরে নারী ও শিশুদের এবং আরও দুই যুবককে সরিয়ে নেওয়া হলেও এই তিনজন এখনও সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
বিজিবি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে বিএসএফকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। তবে বিএসএফের দাবি, ওই তিন ব্যক্তি ভারতের নাগরিক নন। ফলে তাদের গ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
কুড়িগ্রাম
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!