ছবি: সংগৃহীত
প্রথমবার বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় অংশ নিয়েই পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন নেত্রকোনার তানভীর রহমান। মধ্যবিত্ত শিক্ষক পরিবারের সন্তান এই তরুণের সাফল্যে এলাকায় বইছে আনন্দের জোয়ার।
তানভীর রহমান নেত্রকোনা সদর উপজেলার রায়দুম বাগড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা আবদুর রহমান স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং মা রিনা পারভীন গৃহিণী। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তানভীরের শৈশব কেটেছে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে। এলাকায় তখন বিদ্যুৎ ছিল না। হারিকেন ও মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করেই তিনি শিক্ষাজীবনের ভিত গড়ে তোলেন। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল।
ছেলের সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা আবদুর রহমান বলেন, ফল প্রকাশের খবর শুনে তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন। তাঁর মতে, সন্তানের এই অর্জনই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
মা রিনা পারভীন বলেন, ছোট টিনের ঘরে অনেক কষ্টের মধ্যেও তানভীর কখনো পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত হয়নি। তার শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও নিষ্ঠাই আজকের সাফল্যের মূল ভিত্তি।
শিক্ষাজীবনে তানভীর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত আছেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যান এবং প্রথমবার অংশ নিয়েই পররাষ্ট্র ক্যাডারে শীর্ষ স্থান অর্জন করেন। এর আগে তিনি ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তও হয়েছিলেন।
সাফল্যের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তানভীর রহমান বলেন, শিক্ষকতার প্রতি তাঁর আলাদা ভালোবাসা রয়েছে। তবে বিসিএস ফলাফলে প্রথম স্থান অর্জন হবে—এটা তিনি কল্পনাও করেননি।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো কাজে সফল হতে ধারাবাহিকতা, শৃঙ্খলা, পরিশ্রম এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর এই অর্জনকে অনুপ্রেরণাদায়ক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অর্থ নয়—ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমই বড় স্বপ্ন পূরণের মূল চাবিকাঠি।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!