ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম নগরজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনের পর দিন কয়েক ঘণ্টা গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার সময়মতো রান্না করতে পারছে না। ফলে সকালের নাশতা থেকে দুপুরের খাবার—সবকিছুই পিছিয়ে যাচ্ছে, আর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে দুর্ভোগ।
আগ্রাবাদের হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমেনা বেগম জানান, সকালে রান্নার সব প্রস্তুতি থাকলেও হঠাৎ গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বিকেলের দিকে অল্প চাপের গ্যাস পাওয়া গেলে তখন রান্না শেষ করতে সক্ষম হন। এতে পরিবারের সদস্যদের কেউ না খেয়ে ছিলেন, আবার কেউ বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে বাধ্য হয়েছেন।
একই এলাকার বাসিন্দা রোকেয়া আক্তার বলেন, গ্যাস না থাকায় ছোট শিশুদের জন্য পানি ফুটানো কিংবা সময়মতো খাবার প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। আগে থেকে কোনো ঘোষণা থাকলে অন্তত কিছু প্রস্তুতি নেওয়া যেত বলে তিনি মনে করেন।
শুধু আগ্রাবাদ নয়, হালিশহর, খাজা রোডসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। অনেক পরিবার দুপুরের খাবার বিকেলে খেয়েছে, আবার কেউ কেউ হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করেছেন।
গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) জানিয়েছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিল্প খাতের পাশাপাশি আবাসিক এলাকাতেও গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
কেজিডিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে দৈনিক প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২২ থেকে ২৩ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।
নগরবাসীর অভিযোগ, চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের চাপ কম থাকার সমস্যা রয়েছে। তবে সম্প্রতি মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। আগে কম চাপেও কোনোভাবে রান্না করা গেলেও এখন দিনের বড় একটি সময় গ্যাস একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিট সচল করতে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। সমস্যা সমাধান হলে পূর্ণমাত্রায় গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট কেজিডিসিএল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!