ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় একটি পুরোনো কবরস্থানের মালিকানা ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া, পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪৪ শতাংশ জমির একটি পুরোনো কবরস্থান নিয়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আমগড়া গ্রামের কিছু বাসিন্দা কবরস্থানের রাস্তার পাশের অংশে দোকান নির্মাণ করে বাজার স্থাপনের উদ্যোগ নিলে পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দারা এতে আপত্তি জানান।
পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, জায়গাটি ওয়াকফ সম্পত্তি এবং এটি কেবল কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। বিরোধ মেটাতে প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকও হয়েছিল।
তবে শুক্রবার সকালে কবরস্থানে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের গেট ও গরুর খামারেও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দারা দাবি করেছেন, এ সময় তাদের বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়েছে।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে পানেশ্বর পাড়ার ৫৪ জন আহত হন। আহতদের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহত ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দারা দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পূর্বপুরুষেরা কবরস্থানটি দেখাশোনা করে আসছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কবরস্থানের উন্নয়নকাজের জন্য সম্প্রতি মাটি ভরাট করা হয়েছে এবং দেয়াল ও পিলার নির্মাণের জন্য সরকারি বরাদ্দও পাওয়া গেছে।
তারা আরও দাবি করেন, কবরস্থানের জমির মালিকানা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিল তাদের কাছে রয়েছে। প্রশাসনের কাছে দলিলপত্র যাচাই করে বিরোধের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!