বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে শ্রমিক-কর্মচারীদের মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত
বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং অন্যান্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন চট্টগ্রাম ইপিজেডের মডিস্ট সিইপিজেড লিমিটেডের শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৬৫০ থেকে ৭০০ জন অংশ নেন।
কর্মসূচি শেষে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানানো হয়। এতে কারখানাটির বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি তদন্তসহ বকেয়া পাওনা পরিশোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শ্রমিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটিতে প্রায় এক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা কাজ করেন। তাদের মধ্যে স্টাফ পর্যায়ে তিন মাস এবং শ্রমিক পর্যায়ে দুই মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে বলে স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যান্য পাওনাও এখনো পরিশোধ হয়নি বলে দাবি তাদের।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গত প্রায় দেড় বছর ধরে নির্ধারিত সময়ে বেতন-ভাতা পাওয়া যাচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। এর ফলে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় ও সন্তানদের শিক্ষার খরচ চালাতে অনেক পরিবারকে আর্থিক চাপে পড়তে হচ্ছে বলে তারা জানান।
মানববন্ধনে শ্রমিকেরা আরও অভিযোগ করেন, তাদের বেতনের ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ হারে প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা হওয়ার কথা থাকলেও সেই অর্থেরও পরিষ্কার হিসাব তারা পাচ্ছেন না। স্মারকলিপিতে প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থের হিসাব ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে এর আগে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) কাছেও শ্রমিকেরা গিয়েছিলেন বলে জানান তারা। তাদের ভাষ্য, কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। বেপজার পক্ষ থেকেও কার্যকর সমাধান না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।
শ্রমিকদের দাবি, উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার পরও মাস শেষে নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম ইপিজেডে কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনা করে তারা এতদিন কঠোর কর্মসূচিতে যাননি বলেও জানান। কিন্তু দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা তাদের পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
স্মারকলিপিতে বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধ, শ্রমিকদের অন্যান্য পাওনা নিশ্চিত করা এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানাটির আর্থিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিকেরা।
বেতন-ভাতা মানববন্ধন ইপিজেড
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!