যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

কানাডা-ইইউ ঘনিষ্ঠতায় ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, নতুন শুল্কের ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ PM ৫৫
কানাডা-ইইউ ঘনিষ্ঠতায় ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, নতুন শুল্কের ইঙ্গিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; ছবি: সংগৃহীত

কানাডার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বুধবার স্থানীয় সময় নর্থ ক্যারোলিনার শার্লটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইউরোপীয় নেতাদের পরিকল্পনার উদ্দেশ্য কী, তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে। তার ভাষ্য, উদ্যোগটির উদ্দেশ্য ভালো হলে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখবে। তবে উদ্দেশ্য নেতিবাচক হলে বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। ইউরোপের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাণিজ্য সীমিত করার সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

কানাডার ইইউর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকেও ট্রাম্প নেতিবাচকভাবে দেখেছেন। তিনি এ ধারণাকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ভয়ংকর বাণিজ্য অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য আসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়ন কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার প্রস্তাব দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ার প্রেক্ষাপটে কানাডা ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে।

তবে প্রস্তাবিত ‘সহযোগী সদস্যপদ’ বাস্তবে কী ধরনের কাঠামো নেবে, তা এখনো নির্দিষ্ট নয়। বর্তমানে ইইউর বিদ্যমান চুক্তিগুলোতে এ ধরনের সদস্যপদের কোনো বিধান নেই। ভন ডার লেয়নও সম্ভাব্য এই ব্যবস্থায় কানাডার কী অধিকার ও দায়িত্ব থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নিতে হলে ইইউভুক্ত দেশগুলোর অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির কার্যালয় ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও উচ্চাভিলাষী জোট গঠনের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সরাসরি ইইউর ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার প্রস্তাবকে সমর্থন করার কথা তারা বলেনি। এর আগে কার্নি কানাডার ইউরোপমুখী সম্পর্ককে ইইউর সদস্যপদ হিসেবে না দেখে ইউরোপের সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও আর্কটিক অঞ্চলে কানাডা এবং ইইউর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি ইতিমধ্যে আলোচনায় রয়েছে। আগামী মাসে মন্ট্রিয়েলে অনুষ্ঠেয় কানাডা-ইইউ সম্মেলনে এসব বিষয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই কানাডা ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণের দিকে এগোচ্ছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যকার বাণিজ্যিক বিরোধও আরও তীব্র হচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!