যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬,১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাত হলেই ভুমিকম্পে কাঁপছে দেশ

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:০০ PM

৫১
রাত হলেই ভুমিকম্পে কাঁপছে দেশ

রাজধানীতে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন নগরবাসী। ছবিঃ সংগৃহীত

চলতি জুন মাসে একাধিকবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে রাতের সময় একের পর এক কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাসজুড়ে অনুভূত চারটি ভূমিকম্পের সবগুলোই রাতের বেলায় সংঘটিত হয়েছে।

সর্বশেষ ভূমিকম্পটি ২২ জুন রাত ৯টা ২৮ মিনিটের দিকে নরসিংদী কেন্দ্রিক এলাকায় আঘাত হানে। এতে রাজধানী ঢাকা এবং আশপাশের এলাকায় কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী কম্পন অনুভূত হয়। হঠাৎ কম্পনে বহুতল ভবনের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে প্রায় ৪ দশমিক ৪ ছিল এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে মাত্রা ও কেন্দ্রস্থলে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে।

এর আগে ৭ জুন রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর ১১ জুন রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার এবং ১৮ জুন রাত ৯টা ২৯ মিনিটে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার আরও দুটি কম্পন আঘাত হানে। সব মিলিয়ে মাসের চারটি ভূমিকম্পই রাতের সময় অনুভূত হয়েছে।

বিশেষভাবে লক্ষণীয়, তিনটি ভূমিকম্পই রাত ৯টা ৩০ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের সঙ্গে দিন বা রাতের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে রাতের সময় মানুষ ঘরের ভেতরে থাকায় এবং পরিবেশ তুলনামূলক নীরব থাকায় কম্পন বেশি তীব্রভাবে অনুভূত হয়, ফলে আতঙ্কও বাড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। সাম্প্রতিক ছোট ছোট কম্পন ভূ-অভ্যন্তরের স্বাভাবিক টেকটোনিক চাপ মুক্তির অংশ হতে পারে। তবে এগুলোকে বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের মতে, দ্রুত নগরায়ণ, ঘনবসতি এবং ভূমিকম্প-সহনশীল ভবনের ঘাটতি বড় শহরগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। তাই ভবন নির্মাণে মানদণ্ড অনুসরণ, জরুরি প্রস্তুতি এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

ধারাবাহিক ভূমিকম্পের এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে দেশের ভূমিকম্প প্রস্তুতির বাস্তবতা। বিশেষ করে ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের বাসিন্দারা যে ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন, তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ছোট কম্পন বড় ভূমিকম্পের নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে সতর্ক থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!